
সাবশিরোনাম:
হামাসের আকস্মিক হামলার পর ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণে ধ্বংসস্তূপ গাজা; দুই বছরে বদলে গেছে বৈশ্বিক রাজনীতির মানচিত্র
বিস্তারিত সংবাদ:
দু’বছর আগে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর—এই দিনেই হামাসের আকস্মিক হামলায় হতভম্ব হয়ে পড়ে ইসরায়েল। এরপর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল চালায় ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যেই গাজা উপত্যকা পরিণত হয় এক ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপে। দুই বছরে প্রাণ হারায় ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ, যার অধিকাংশই নারী ও শিশু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘে গাজা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ব্যবহার পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিচারিতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গড়ে উঠছে নতুন শক্তি বলয়—উত্থান ঘটছে গ্লোবাল সাউথের। ফলে বিশ্ব রাজনীতি ক্রমেই একমেরু থেকে বহুমেরুভিত্তিক হয়ে উঠছে।
হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থন দিলেও, উপত্যকাজুড়ে সীমাহীন বর্বরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনায় পশ্চিমা ঐক্যে দেখা দিয়েছে ফাটল। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়ছে ফিলিস্তিনপ্রীতি ও ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব।
চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক ড. সানাম ভাকিল বলেন,
“গত দুই বছরে মধ্যপ্রাচ্যে রেড লাইন অতিক্রমের মতো বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। ইরান সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও হস্তক্ষেপ করেছে। এমনকি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। ফলে অঞ্চলটি ক্রমেই আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের সেই হামলার প্রভাব গাজা ছাড়িয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান, হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিসহ ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী এখন আগের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ। এতদিন প্রক্সি যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ঐতিহাসিক ৭ অক্টোবরের পর সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ইরান ও ইসরায়েল। যুদ্ধের আঁচ পৌঁছেছে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন পর্যন্ত।
উপসংহার:
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ৭ অক্টোবরের সেই ঘটনার প্রতিধ্বনি আজও শোনা যায় মধ্যপ্রাচ্যের বাতাসে। গাজা এখনও আগুনে পুড়ছে, রক্তে ভিজছে মাটি। বিশ্ব আজ দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত দ্বন্দ্বের দ্বারপ্রান্তে—যেখানে শান্তির আহ্বান চাপা পড়ে যাচ্ছে শক্তির রাজনীতির গর্জনের নিচে।