সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভালো দাম ও প্রণোদনায় কাশিয়ানীতে বাড়ছে পেঁয়াজ চাষ গাজীপুরে ফিনিক্স কয়েল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিজের চেষ্টায় কমলার বাগান ঘুরে দাঁড়াল তোফায়েল, মৌলভীবাজারে আবারও ফিরছে সোনালি সুদিন  ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলের ফাইনালে সিরাজগঞ্জ জেলা দল ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের ‘বোঝা হতে চান না’ মেসি ফুলবাড়িয়ায় বাসে অগ্নিকাণ্ডে চালক নিহত, দগ্ধ দুই পল্টনে আট দলের যুগপৎ সমাবেশ, পাঁচ দফা দাবি পেশ শেরপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ দরজায় কড়া নাড়ছে শীত, ঝিনাইদহে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ড, ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক

ভালো দাম ও প্রণোদনায় কাশিয়ানীতে বাড়ছে পেঁয়াজ চাষ

বার্তা সম্পাদক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় সরকারি প্রণোদনা ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদিও উৎপাদন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে, তবুও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলে পেঁয়াজের চাষ বাড়ছে।

কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলায় ৮৪২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫১৬ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা প্রধানত বারি-৪ ও তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ চাষ করছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, তিন থেকে চার বছর আগেও পেঁয়াজ চাষ করে অনেক কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে পারেননি। তখন বাজারমূল্য কম থাকায় তারা অন্য ফসলে ঝুঁকেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেঁয়াজের দাম চড়া থাকায় কৃষকেরা আবারও এ ফসলের দিকে ফিরে এসেছেন।

মহেশপুর ইউনিয়নের ব্যাসপুর গ্রামের কৃষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “গত বছর এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ করেছিলাম। ভালো দাম পেয়েছি। তাই এ বছর তিন বিঘা জমিতে আবাদ করেছি।” তার মতে, সঠিক বাজারমূল্য পেলে পেঁয়াজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক।

হোগলাকান্দি গ্রামের কৃষক তুহিন মোল্যা জানান, এ বছর প্রথমবারের মতো ৪০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় তার খরচ কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, “ভালো দাম পেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজ করব।”

ধোপড়া গ্রামের সাধন মজুমদার বলেন, “পাঁচ বছর আগে দাম না থাকায় পেঁয়াজ বাদ দিয়েছিলাম। কিন্তু দুই-তিন বছর ধরে দাম ভালো। তাই আবার পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছি।”

কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. এজাজুল করিম বলেন, “ভালো বাজারমূল্য ও সরকারি সহায়তার কারণে কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এ মৌসুমে ১ হাজার ৫১৬ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করছি উৎপাদনও ভালো হবে।”

তিনি আরও জানান, এ অঞ্চলের বেলে দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন আরও বাড়বে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, বাজারমূল্য ও প্রণোদনার ইতিবাচক প্রভাবে কাশিয়ানীতে পেঁয়াজ চাষে নতুন গতি এসেছে। কৃষকেরা আশা করছেন, দাম স্থিতিশীল থাকলে ভবিষ্যতেও এ ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
themesba-lates1749691102